গত ২৪ ঘণ্টা দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে এক মিশ্র বার্তা নিয়ে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৪৮৬ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, এই সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, যা নিঃসন্দেহে দেশবাসীর জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
একটি মৃত্যুশূন্য দিন নিঃসন্দেহে আমাদের সামগ্রিক ডেঙ্গু মোকাবিলা প্রচেষ্টার একটি ইতিবাচক দিক। এটি হয়তো স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার ফল। তবে, এই পরিসংখ্যানকে কেবল একটি সাময়িক স্বস্তি হিসেবেই দেখা উচিত। ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনো সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং এর গতিপ্রকৃতি যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।
মৃত্যুশূন্য দিন যতটা আশা জাগায়, ৪৮৬ জন নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ততটাই উদ্বেগ বাড়ায়। এই বিশাল সংখ্যক নতুন আক্রান্ত প্রমাণ করে যে, এডিস মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বর্ষার শেষ ভাগে এবং শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে মশার বংশবৃদ্ধি রোধে আমাদের আরও সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সতর্কতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা অপরিহার্য। নিজের বাড়ি এবং কর্মস্থলের আশেপাশে কোনো পাত্রে পানি জমে আছে কিনা, সেদিকে নিয়মিত খেয়াল রাখা জরুরি। পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব বা যেকোনো খোলা স্থানে যেন বৃষ্টির পানি না জমে, তা নিশ্চিত করতে হবে। জ্বর বা ডেঙ্গুর অন্য কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অতএব, গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য একদিকে যেমন ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে এই নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে লড়াই এখনো বাকি। আসুন, সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে অবিচল থাকি।