টিভির পর্দা আঁধার হওয়ার আগে: পিলসবারির একটি ভূমিকা

ThinkPositive

Facebook
LinkedIn
X
WhatsApp
Email

১৯৭৫ সাল। আমাদের বাবা-মায়েরা তখন হয়তো সদ্য তারুণ্যে পা রেখেছেন, অথবা শৈশবের স্মৃতি বুনে চলেছেন। বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম তখন টেলিভিশন, যা ছিলো ঘরের কেন্দ্রবিন্দু। আর এমন সময়ে যদি খবর আসতো যে, আর্থিক সঙ্কটে টিভি স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাহলে কেমন লাগতো? ঠিক এমনই এক টিভি ব্ল্যাকআউটের হুমকি দেখা দিয়েছিল সেই বছর। কিন্তু পর্দার আঁধার হওয়া থেকে বাঁচিয়েছিল একটি অপ্রত্যাশিত নাম – পিলসবারি।

আসলে ঘটনাটি ছিলো তৎকালীন মিডিয়া জগতের অর্থায়ন ব্যবস্থার একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ। ব্রডকাস্টিং বা সম্প্রচার ব্যবস্থা তখন পুরোটাই নির্ভরশীল ছিল বিজ্ঞাপনদাতাদের উপর। বড় বড় কোম্পানি তাদের পণ্য প্রচারে যে অর্থ দিতো, তাতেই চলতো টিভি স্টেশনগুলো। পিলসবারির মতো একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যখন এগিয়ে এসেছিল, তখন বোঝা গিয়েছিল যে, তাদের বিজ্ঞাপন শুধু পণ্য বিক্রিই করছিল না, বরং সমগ্র টেলিভিশন শিল্পকে সচল রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল।

আজকের দিনে আমরা ইন্টারনেট, স্ট্রিমিং সার্ভিস, ইউটিউব, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মতো অজস্র বিকল্পের মাঝে থাকি। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বিনোদনের এই বিশাল ক্ষেত্রটি ছিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। টেলিভিশন ছিল সীমিত চ্যানেল, সীমিত বিষয়বস্তু আর তার পিছনে এক বা একাধিক বড় বিজ্ঞাপনদাতার পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত। একটি ব্ল্যাকআউটের হুমকি মানে ছিল, হয়তো পুরো একটি অঞ্চলের মানুষ তাদের একমাত্র বিনোদন মাধ্যম থেকে বঞ্চিত হতে পারতো – যা দেখায়, সেই সময়ে কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকদের ক্ষমতা কতটা ব্যাপক ছিল।

এই ঘটনাটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কিভাবে ব্যবসা এবং প্রযুক্তি বরাবরই একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সে সময় একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত দর্শকদের বিনোদন পাওয়ার সুযোগকে সরাসরি প্রভাবিত করত। এটি আমাদের বর্তমান সময়ের কথা ভাবতে শেখায় – যেখানে সাবস্ক্রিপশন মডেল, মাল্টিপল অ্যাডভার্টাইজার এবং ব্যক্তিগত ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে মিডিয়া টিকে আছে। কিন্তু মৌলিক প্রশ্নটি আজও একই: কে অর্থায়ন করছে আমাদের বিনোদন ও তথ্যের উৎসগুলোকে, এবং সেই অর্থায়নের পেছনে তাদের কী উদ্দেশ্য?

পিলসবারির ১৯৭৫ সালের এই ভূমিকা কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির বিবর্তন এবং কর্পোরেট প্রভাবের একটি ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। এটি প্রমাণ করে যে, দর্শকরা যা দেখে বা দেখে না, তার পিছনে প্রায়শই বড় বড় বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত কাজ করে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে মিডিয়ার রূপ পাল্টালেও, অর্থায়নের এই জটিল সমীকরণ আজও অপরিবর্তিত।

উৎস: https://www.postbulletin.com/community/1975-pillsbury-will-prevent-tv-blackout

এই ওয়েব সাইটটিতে যা কিছুই দেখছেন এর শতকরা ৯০ ভাগ তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর এআই এজেন্ট ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে।

আপনিও ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে যে কোন ধরণের স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট তৈরি করে নিতে পারেন।

সংবাদ কনিকা, ব্লগ পোস্ট তৈরি করা, সচরাচর জিজ্ঞাস্য এবং স্বয়ংক্রিয় ইমেইল উত্তর প্রদান ব্যবস্থা তৈরি করে নিতে পারেন।

ই-বুক ও ই-লার্নিং প্লাটফর্ম তৈরি করে নিতে পারেন।

এ ছাড়াও আমরা গবেষনা কার্যক্রম পরিচালনা, ডাটা এনালাইসিস, প্রকল্প মূল্যায়ন ও গবেষনা রিপোর্টসহ যে কেন রিপোর্ট প্রস্তুত কাজে পারদর্শী।  

সর্বশেষ লেখা