শীতের আমেজ যখন চারপাশে, তখন ডেঙ্গুর খবরে অনেকের ভ্রু কুঁচকে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, এই মৌসুমি রোগটি এখনও আমাদের পিছু ছাড়েনি। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার, মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৪৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সংখ্যাই প্রমাণ করে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এখনও আরও জোরালো হওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে কোনো মৃত্যুর খবর না পাওয়া গেলেও, প্রতিদিন এত সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়াটা অবশ্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়। ডেঙ্গু শুধু একটি জ্বর নয়, এটি কেড়ে নিতে পারে মানুষের কর্মক্ষমতা, স্বাস্থ্য এবং ক্ষেত্রবিশেষে জীবনও। মশার কামড় থেকে ছড়ানো এই রোগটি তার প্রকোপ কমানোর বদলে যেন নতুন করে শক্তি সঞ্চার করছে।
এই ৪৬০ জন আক্রান্তের খবর আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এখনও মশার অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র রয়ে গেছে। হয়তো আমরা ভাবছি, ডেঙ্গুর মৌসুম শেষ, তাই সচেতনতা কমে গেছে। কিন্তু এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য সামান্য জমা জলই যথেষ্ট। এই সংখ্যা আসলে আমাদের সচেতনতার অভাব এবং কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতিরই প্রতিচ্ছবি।
তাই ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করে সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক সকল স্তরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও তৎপর হওয়া জরুরি। বাড়ির আঙিনা, ছাদবাগান, নির্মাণাধীন ভবন – কোথাও যেন জল জমতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মশারির ব্যবহার এবং মশা তাড়ানোর স্প্রে নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত। আসুন, সামান্য অসাবধানতার কারণে আমাদের প্রিয়জনদের যেন ডেঙ্গুর শিকার হতে না হয়।
ডেঙ্গু একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা, যা এককভাবে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, অবিরাম সচেতনতা এবং দায়বদ্ধতা। এই ৪৬০ সংখ্যাটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। নিরাপদ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে হলে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, শীত আসুক বা না আসুক।