গ্রীষ্ম বা বর্ষা পেরোলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ যেন পুরোপুরি থামছে না। সম্প্রতি সারা দেশে নতুন করে বহু মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা আবারও মনে করিয়ে দেয় যে এই রোগটি এখন আর শুধু একটি নির্দিষ্ট ঋতুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই উদ্বেগজনক চিত্র আমাদের সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে তুলে ধরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে প্রায় ৪৬০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যদিও স্বস্তির খবর হলো, এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবুও এত সংখ্যক নতুন রোগী ভর্তি হওয়াটা নিঃসন্দেহে গভীর মনোযোগের দাবি রাখে।
সাধারণত বর্ষার সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে বলে ধারণা করা হয়, কিন্তু নভেম্বরের মাঝামাঝিতে এসেও এত সংখ্যক রোগীর উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে মশার প্রজনন এবং রোগের বিস্তার ভিন্ন প্যাটার্ন অনুসরণ করছে। পরিবর্তিত জলবায়ু এবং শহরীকরণ হয়তো এর পেছনে দায়ী। জমে থাকা পানি পরিষ্কারের চলমান প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি থাকছে কিনা, অথবা মশার প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও ভাববার অবকাশ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি পরিবার এবং ব্যক্তির নিজস্ব দায়বদ্ধতা অপরিহার্য। বাড়ির আশেপাশে, ছাদে বা আঙিনায় যেখানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। মশারীর ব্যবহার, কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। সামান্য অসতর্কতাই কিন্তু বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচেষ্টা অবশ্যই প্রশংসনীয়, কিন্তু কেবলমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে এই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতাই পারে ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে ডেঙ্গুমুক্ত একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে।