আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে নানা সমীকরণ দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া, যা নিঃসন্দেহে একটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সদ্য দলে যোগ দেওয়া এই প্রার্থীর মাধ্যমে সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার পুত্র রাজনীতিতে তাঁর নিজস্ব অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন। তাঁর এই অংশগ্রহণ হবিগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শাহ এ এম এস কিবরিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক সজ্জন ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, যিনি আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর পুত্র ড. রেজা কিবরিয়ার ভিন্ন একটি রাজনৈতিক মঞ্চে, অর্থাৎ বিএনপির ব্যানারে, আত্মপ্রকাশ নিঃসন্দেহে কৌতূহল উদ্দীপক। এই ঘটনা কেবল একটি নির্বাচনী মনোনয়ন নয়, বরং একটি রাজনৈতিক পরিবারের আদর্শিক উত্তরাধিকার এবং সময়ের সাথে সাথে রাজনৈতিক পরিচয়ের বিবর্তনকেও নির্দেশ করে।
রেজা কিবরিয়ার এই যাত্রা একদিকে যেমন তাঁর পিতার বিশাল রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সুবিধা বয়ে আনবে, তেমনি অন্যদিকে তাঁর জন্য নিজস্ব একটি পরিচিতি গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে। তাঁর পিতাকে যে দলীয় পরিচয়ে মানুষ চিনত, তার থেকে ভিন্ন এক পরিচয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সহজ নাও হতে পারে। তবে, স্থানীয় ভোটারদের কাছে কিবরিয়া নামটি এখনও একটি সম্মানের প্রতীক, যা তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা যায়।
বিএনপির পক্ষ থেকে রেজা কিবরিয়াকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত দলের কৌশলগত দিকটিও তুলে ধরে। এটি হয়তো তারুণ্য এবং পরিচিত মুখকে দলে নিয়ে আসার প্রচেষ্টারই অংশ। এর মাধ্যমে বিএনপি হয়তো দেখাতে চাইছে যে, তারা শুধু পুরনো নেতাদের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং নতুন প্রজন্ম এবং ভিন্ন রাজনৈতিক ধারা থেকে আসা ব্যক্তিদেরও দলে স্বাগত জানাচ্ছে। এই পদক্ষেপ হবিগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
সব মিলিয়ে, ড. রেজা কিবরিয়ার এই মনোনয়ন হবিগঞ্জ-১ আসনের ভোটারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। আগামী দিনে এই আসনে ভোটযুদ্ধ কেমন রূপ নেয় এবং কিবরিয়া পুত্র তাঁর পিতার রাজনৈতিক ছায়া পেরিয়ে কতটা সফল হন, তা দেখতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মুখিয়ে থাকবেন। এটি কেবল একটি সংসদীয় আসনের নির্বাচন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিতও হতে পারে।