সম্প্রতি দেশজুড়ে হামের যে ভয়াবহ বিস্তার দেখা যাচ্ছে, তা আমাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ছোট্ট সোনামণিদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগজনক। হাসপাতালের শয্যা সংকট, ওষুধের অপ্রতুলতা এবং রোগীর উপচে পড়া ভিড় যেন এক অন্যরকম মহাবিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরছে, যা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করেছে।
দেশের অধিকাংশ হাসপাতালেই এখন করিডোর থেকে শুরু করে বারান্দা, এমনকি মেঝেতেও রোগীদের জায়গা করে নিতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যকর্মীদের উপরও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই হামের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দুই বছরের কম বয়সী শিশুরা। বিশেষত ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে, কারণ এই বয়সে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা তাদের কম থাকায়, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তাদের সুরক্ষা ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়, বরং এর পেছনে টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা এবং জনসচেতনতার অভাবও অনেকাংশে দায়ী হতে পারে। সময়মতো শিশুদের টিকা দেওয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং অসুস্থ শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া এই রোগের প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি পরিবারকে এই বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি ও কার্যকারিতা আরও জোরদার করতে হবে।
হামের এই লাগামহীন বিস্তার আমাদের স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতাগুলোকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ জনগণ – সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে, এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আমাদের সমাজের উপর এক গভীর কালো ছায়া ফেলবে এবং জনস্বাস্থ্যকে আরও হুমকির মুখে ফেলবে।
মূল সূত্র: https://dainikamadershomoy.com/details/019d546e98484